সময় সন্ধ্যা ৭:৪৭, রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বদলপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র বদ‌লে দি‌য়ে‌ছে অ‌নে‌কের ভাগ্য।

শামীম শেখ :

চি‌কিৎসা ম‌ানু‌ষের এক‌টি মৌ‌লিক অ‌ধিকার ।অামরা যারা শহরাঞ্চ‌লে বসবাস ক‌রি, তা‌দের সামান্য কিছু হ‌লেই ডাক্তা‌রের সরানপন্ন হই। তা‌তে অামা‌দের তেমন কষ্ট কর‌তে হয় না । চার দেওয়া‌লের অাবদ্ধ প‌রি‌বেশ থে‌কে বের হ‌লেই পে‌য়ে যাই বড় বড় ডি‌গ্রীধা‌রি ডাক্তার । অামা‌দের ভাবনায় এমন কোন দৃশ্য এসে‌ছে কখ‌নো ? যেখা‌নে একজন রুগীকে সাধারন একজন ডাক্তা‌রের নিকট পৌঁছা‌তে ৩ থে‌কে ৪ ঘন্টা সময় লে‌গে যায় কিংবা দা‌রিদ্রতার কার‌নে ডাক্তা‌রের কা‌ছে যাওয়াই হয়না? হ্যাঁ । এমন ই এক‌টি এলাকা বদলপুর ইউনিয়‌নের পাহারপুর গ্রাম।

JAAGO Foundation ও SHOUT এর সহযোগিতায় Save the Children in Bangladesh-এর #BridgingTheGap’ নামক কার্যক্রম হচ্ছে ‘#EveryLastChild’ বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইনের অংশ। এই কাজের সাথে যুক্ত হয়ে আমি দল বেঁধে হ‌বিগঞ্জ জেলার বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প‌রিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাই।

পাহারপুর গ্রা‌মের মানু‌ষের চলা‌ফেরায় বুঝা‌গেল তারা এখন অ‌নেকটা স‌স্থি‌তে । ২০১৬ সা‌লের পূ‌র্বে এ গ্রা‌মে কোন চি‌কিৎসা কেন্দ্র ছিলনা। চি‌কিৎসা নি‌তে হ‌লে যে‌তে হইত অ‌নেক দূর।২০১৬ সা‌লে Save the Children in Bangladesh এর সহ‌যো‌গিতায় মা ম‌নি কে কেন্দ্র ক‌রে গ‌ড়ে ও‌ঠে বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও প‌রিবার কল্যাণ কেন্দ্র।যাহা র্নিমা‌নের পর বাংলা‌দেশ সরকা‌রের নিকট হস্তান্তর করা হয়।এলাকার লোকজন এখান থে‌কে চি‌কিৎসা নি‌তে পে‌রে অা‌নেক খু‌শি।

স্বাস্থ্য কে‌ন্দ্রে চি‌কিৎসা নি‌তে অাসা ক‌য়েকজন রুগী ও অ‌ভিভাবক‌দের সা‌থে কথা হ‌লো। তা‌দের নিকট জান‌তে চাওয় হ‌লো পূ‌র্বের চি‌কিৎসা ব্যাবস্থা সর্ম্প‌কে।তা‌দের ভাষ্য অনুযায়ী এ এলাকার মানুষ পূ‌র্বে তেমন কোন চি‌কিৎসা পেত না। কত মা সন্তান জন্ম দি‌তে গি‌য়ে সর্বস্ব হা‌রি‌য়ে‌ছে , সন্তান হা‌রি‌য়ে‌ছে তার মা, স্বামী হা‌রি‌য়ে‌ছে তার স্ত্রী, পরিবার হা‌রি‌য়ে‌ছে তার অ‌ভিভাবক , দেশ হা‌রি‌য়ে‌ছে সম্পদ। হয়‌তো অ‌নেক মা ও তার সন্তান বেঁ‌চে যেতে পারত একটা স‌ঠিক পরামর্শ পে‌লে । কিন্তু কে দি‌বে পরামর্শ ? অ‌নেক শিশু সুষ্ঠ ভা‌বে জন্ম নেওয়ার পর স্বাভা‌বিক ভা‌বে বে‌ড়ে উঠ‌ছিল। হঠাৎ কি যেন হ‌য়ে গেল। হারা‌তে হ‌লো হয়‌তো একজন কাজী নজরুল কে অথবা জগ‌দিশ চন্দ্র বসু কে।

বদরপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈ‌রির প‌রের বর্ননা দি‌লেন ঐ স্বাস্থ্য কে‌ন্দ্রে একজন কর্মকতা সাথে ছি‌লেন একজন রুগীর অ‌ভিভাবক। গত ১ বছ‌রে ঐ এলাকায় প্রায় ৪০০ জন নবজাত‌কের জন্ম হয় ।তার ম‌ধ্যে ২৬০ জ‌নের স্বাভা‌বিক ভা‌বে জন্ম হয় বদলপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কে‌ন্দ্রে। যার ম‌ধ্যে অ‌নে‌কেই কোন রকম ঝুঁকি ছাড়া মা হ‌য়ে‌ছেন। কারন তারা নিয়‌মিত স্বাস্থ্য পরামর্শ নেওয়ার জন্য ঐ স্বাস্থ্য কে‌ন্দ্রে এসে‌ছে।অা‌রেক‌টি বিষয় ব‌লে রা‌খি যে , ঐ এলাকায় কোন বিদু্ৎ সং‌যোক নেই।‌সৌর শ‌ক্তি ব্যবহার ক‌রে চল‌ছে স্বাস্থ্য কে‌ন্দ্রের কাজ।

এলাকাবাসীর মু‌খে হা‌সি ফোঁটে তা‌দের খোঁজখবর নি‌তে গে‌লে । ত‌বে এলাকাবাসী অা‌রো একটু উন্নত সেবা পে‌তে চায় বদলপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্র থে‌কে।

স্বাস্থ্য কে‌ন্দ্রের একজন কর্মী জানান যে , য‌দি কোন অসহায় দ‌রিদ্র রুগী অামা‌দের নিকট অা‌সে ত‌বে ইউনিয়ন প‌রিষ‌দের মাধ্য‌মে অামরা তার উন্নত চি‌কিৎসা সেবা নি‌শ্চিত ক‌রে থা‌কি।‌তি‌নি অা‌রো জানান যে , যোগা‌যোগ ব্যবস্থা ভা‌লো না থাকার কার‌নে অ‌নেক রুগী‌কে জরুরী অবস্থায় উন্নত চি‌কিৎসার জন্য শহ‌রে পাঠা‌তে বিলম্ভ হয়। অ‌নেক রুগী পথম‌ধ্যেই মারাযায়।

সম্পাদকঃ  অনুজিত সরকার
প্রকাশকঃ মুহাম্মদ রকিবুল হাসান
ই-মেইলঃ [email protected]

কপিরাইট © ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রাজবাড়ী